রাশিয়ার নাগরিক হওয়া কি সত্যিই সম্ভব ২০২৫ আপডেট

রাশিয়ার নাগরিক হওয়া কি সত্যিই সম্ভব ২০২৫ আপডেট

Mim
19 Nov, 2025

২০২৫ সালে রাশিয়ায় অ্যাপার্টমেন্ট কিনে কীভাবে রেসিডেন্স পারমিট পাওয়া যায়—আইন, খরচ, ঝুঁকি, ধাপ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত সহজ ব্যাখ্যা।

Russia Property

রাশিয়ায় একটা ফ্ল্যাট কিনে রেসিডেন্স পারমিট পাওয়া শুনতে যতটা সহজ লাগে, বাস্তবে বিষয়টা তারচেয়ে একটু জটিল। আজকাল দুনিয়াটা এমনভাবে গ্লোবালাইজড হয়ে গেছে যে এক দেশে এসে থাকা, অন্য দেশে বিনিয়োগ করা সবই সাধারণ ব্যাপার। রাশিয়াও তার বাইরে না। বিশেষ করে ২০২৫ সালে এসে বিদেশিদের জন্য প্রোপার্টি কেনা নিয়ে আইন অনেকটাই পরিষ্কার, তবে একই সাথে কিছু জায়গায় আগের চেয়ে কড়াও হয়েছে। তাই যারা সত্যি সত্যি ফ্ল্যাট কিনে থাকার পারমিট নিতে চান, তাদের আগে থেকেই পুরো বিষয়টা বুঝে নেওয়া দরকার। সেটা শহরের ভাড়াবাড়ির মতো হুটহাট সিদ্ধান্ত না; আগেই বলে রাখা ভালো, এখানে ভুল করলে খেসারতটা বড়ই হতে পারে। রাশিয়ায় বিদেশিরা বাড়ি-ফ্ল্যাট কিনতে পারে এটা অনেকেই জানে না। অনেকেই ভাবে, রাশিয়ার নাগরিক না হলে ওই দেশে বাড়ি টাড়ি নেওয়া যাবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিদেশিদের ওপর বাড়তি কোনো বড় বাধা নেই।


তবে কিছু এলাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে যেমন, বর্ডার এরিয়া, মিলিটারি বা সিকিউরিটি জোন, বা কৃষিজমি এসব জায়গায় বিদেশিদের মালিকানা সীমিত। কিন্তু সাধারণ অ্যাপার্টমেন্ট, রেসিডেন্সিয়াল হাউজ এসব তো কেউই আটকায় না। এখানেই ব্যাপারটা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, কারণ যে দেশে আপনি থাকতে চান বা সময় কাটাতে চান, সেখানে নিজের একটা ফ্ল্যাট থাকলে সেটা মানসিকভাবেও একটা নিরাপত্তা, আর সরকারি অফিসাররা দেখলেও আপনার পক্ষে যায়—এটা তো সত্যি। কিন্তু ভুলটা যেটা অনেকেই করে তারা ভাবে ফ্ল্যাট কিনলেই ভিএনজে বা পিএমজে হাতে চলে আসবে। আসলে না। রাশিয়ার আইন আলাদা জিনিসকে আলাদা করে দেখে। ফ্ল্যাট আপনার একটি সাপোর্টিং ফ্যাক্টর মাত্র। আপনি দেশের ভিতরে থাকার জায়গা দেখাতে পারবেন, তাই এটা মাইগ্রেশন অফিসের কাছে একটা ভালো দিক। কিন্তু শুধু ফ্ল্যাট কিনেছেন বলে তারা আপনাকে রেসিডেন্স পারমিট দেবে—এটা কোনোদিনই পরিষ্কারভাবে বলা নেই। তার মানে, যেটা আপনাকে করতে হবে সেটা হলো পুরো প্রক্রিয়াটা ঠিকমতো ফলো করা। যেমন, আয়-রোজগারের প্রমাণ, থাকার ঠিকানা, মেডিক্যাল রিপোর্ট, প্রয়োজন হলে ভাষা পরীক্ষা সবকিছুই জমা দিতে হয়।


আর এগুলোর বাইরে যদি আপনি ইনভেস্টমেন্ট রুটে যেতে চান, তাহলে আলাদা করে দেখাতে হবে—আপনার কেনা সম্পত্তির দাম কতো, সেটা কোন শহরে, এবং আপনি সেটা পুরোপুরি নিজের টাকায় কিনেছেন কি না। ২০২৫ সালে এসে অনেক শহরেই ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে রেসিডেন্স পাওয়ার শর্ত একটু গোছানো হয়েছে। মস্কোর মতো বড় শহরে এই থ্রেশহোল্ড খুবই বেশি—হাতে প্রায় পঞ্চাশ মিলিয়ন রুবল না থাকলে এখান দিয়ে রুট পাওয়া কঠিন। কিন্তু রাশিয়া তো শুধু মস্কো না। রিজিয়ন বা দূর-পূর্বের অনেক শহরেই ২০–২৫ মিলিয়নের রেঞ্জে ফ্ল্যাট কিনলেও কিছু ক্ষেত্রে বিনিয়োগ রুটে আবেদন করা যায়। তবে এটাও নির্দিষ্ট না—এটা এলাকার নিয়ম, স্থানীয় মাইগ্রেশন অফিসের ব্যাখ্যা—এসবের ওপর নির্ভর করে। তাই আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আপডেট জানা জরুরি। ফ্ল্যাট কেনার আরেকটা সুবিধা হচ্ছে, এটা আসল সম্পদ। কাগজে-কলমে বিনিয়োগ করার মতো ভোলাটাইল না। আপনি যখন একটা অ্যাপার্টমেন্ট কিনছেন, সেটা নিজে থাকাও যায়, ভাড়া দিয়েও ইনকাম হয়। লম্বা সময়ে দামও বাড়তে পারে। তাই রেসিডেন্স পারমিটের বাইরে এটাকে একটা বাস্তব বিনিয়োগও বলা চলে। কিন্তু সমস্যা থাকে চাইলে। রাশিয়ার রিয়েল এস্টেট মার্কেট, বিশেষ করে মস্কো ও বড় শহরগুলোর বাজার অনেকটাই ওঠানামা করে। ভুল দামে ভুল বিল্ডিং কিনলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। আর বিদেশিদের জন্য কারেন্সি রেস্ট্রিকশন আছে—বিশেষ করে যেসব দেশের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ভালো না, তাদের নাগরিকদের ক্ষেত্রে টাকা পাঠানো, বিক্রির টাকা তোলা—এসব আরও কঠিন। যদিও বাংলাদেশ এ ক্যাটেগরিতে পড়ে না, ভবিষ্যতে নিয়ম বদলালে পরিস্থিতি যে বদলাবে না তা বলা যায় না। ফ্ল্যাট কেনার প্রক্রিয়াটাও খুব সরল না। প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন শহরে কিনবেন।


মস্কোতে দাম বেশি, কাগজপত্র বেশি, কিন্তু সুযোগও বেশি। অন্যদিকে কাজান, ইয়েকাতেরিনবার্গ, নভোসিবির্স্কের মতো শহরে দাম তুলনামূলক অনেক কম, বিল্ডিংয়ের কাগজপত্রও পরিষ্কার থাকে অনেক ক্ষেত্রে, আর ইনভেস্টমেন্ট রুটের দিকে তাকালে এখানেই সুবিধা বেশি। আপনি যখন একটা ফ্ল্যাট পছন্দ করেন, তখন দেখতে হবে—ওই ফ্ল্যাটের ডকুমেন্ট প্রতিবন্ধক আছে কি না, আগের মালিকের কোনো মামলা-ঝামেলা আছে কি না, নতুন বিল্ডিং হলে সেটা ট্রায়াল রান পেরিয়ে অফিসিয়ালি কমিশনড হয়েছে কি না। এসবের কোনোটাতে ভুল হলে রেসিডেন্স আবেদন আটকে যেতে পারে। ফ্ল্যাট কিনে ফেললেন—কাজ শেষ না। অনেক ইনভেস্টমেন্ট রুটে শর্ত থাকে—মর্টগেজে নিলে সেই ফ্ল্যাট ধরা হবে না। মানে, আপনাকে নিজের টাকায় কিনতে হবে। আবার কোথাও কোথাও শর্ত থাকে—আপনাকে কমপক্ষে এক বছর ফ্ল্যাট নিজের নামে রাখতে হবে, তারপর রেসিডেন্স আবেদনের কাগজ জমা দিতে পারবেন। অনেকেই এখানে ভুল করে। তাই আগে থেকেই রুটটা জেনে নেওয়া উচিত। ফ্ল্যাট কেনার পর আপনাকে বসবাসের ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে—যেটাকে তারা বলে “প্রোপিসকা”। রাশিয়ায় এই জিনিসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কোনো শহরে থাকেন বা থাকার পরিকল্পনা করেন—সেটা নমভাবে নিবন্ধন করতে হয়।



রেজিস্ট্রেশন না করলে জরিমানা, আর শুধু জরিমানাই না—কখনো কখনো রেসিডেন্স পারমিট প্রসেসেও সমস্যা দেখা দেয়। আরেকটা ব্যাপার হলো ভাষা-ইতিহাস-আইন পরীক্ষা। এটি অনেকের ক্ষেত্রেই বাধ্যতামূলক, আবার কারো ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় না। আপনার ক্যাটাগরিতে কী লাগে—সেটা আবেদন করার আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার। রাশিয়া খুব বড় দেশ। প্রতিটা অঞ্চলের আইন বাস্তবায়নও আলাদা। এই পার্থক্যটাই অনেক নতুন ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করে। মস্কোতে যে নিয়ম, ভ্লাদিভস্তকে সেটা নাও থাকতে পারে। আবার অনেক অঞ্চলে বিদেশিদের প্রতি মনোভাব তুলনামূলক সহজ। তাই কোন শহরে আপনি বিনিয়োগ করছেন—এটা রেসিডেন্স প্রসেসে অনেকটাই প্রভাব ফেলে। সব মিলিয়ে, ফ্ল্যাট কিনে রেসিডেন্স পারমিট—এটা কোন ম্যাজিক না। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, বাজেট, আর কাগজপত্র ঠিকঠাক রাখলে এই রুট সত্যিকারের কাজ করে। তবে যারা ভাবে—“একটা ফ্ল্যাট কিনবো, তারপর তো রাশিয়ায় বসে যাবো”—তাদের জন্য বাস্তবতা ভিন্ন। পুরো বিষয়টা হলো প্রস্তুতি, ধৈর্য, আর সঠিক তথ্য। ভুল বিল্ডিং, ভুল দলিল, অথবা অপর্যাপ্ত কাগজপত্র—এসব করলে আপনার ফ্ল্যাট থাকবে, কিন্তু রেসিডেন্স পারমিট থাকবে না।

About the Author

Mim

Content Author