
বাংলাদেশি ছাত্রদের ঘণ্টাভিত্তিক আয়ের সম্পূর্ণ গাইড
রাশিয়ায় বাংলাদেশি ছাত্ররা কোন কাজ করতে পারে এবং ঘণ্টাভিত্তিক কত আয় করে? রেস্টুরেন্ট, ডেলিভারি, সুপারশপ, ক্যাম্পাস ও ফ্রিল্যান্স জবের বাস্তব ঘণ্টাভিত্তিক রেট, কাজের নিয়ম, শহরভিত্তিক সুযোগ এবং স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত নিয়ে বিস্তারিত গাইড।
রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চাকরি: বাংলাদেশি ছাত্ররা ঘণ্টাভিত্তিক কত আয় করতে পারে? রাশিয়া বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় উচ্চশিক্ষার গন্তব্য। তুলনামূলক কম খরচ, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং বহুজাতিক স্টুডেন্ট কমিউনিটির কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখানে পড়তে আসে। কিন্তু প্রায় সবাই এক প্রশ্ন জানতে চায়—রাশিয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি কি কাজ করা যায়? আর গেলে ঘণ্টাভিত্তিক কত টাকা পাওয়া সম্ভব? এই ব্লগে আমরা রাশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের কাজ করে এবং এসব কাজে ঘণ্টা হিসেবে কত উপার্জন করে তার বিস্তারিত আলোচনা করবো।
রাশিয়ায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাজের ধরন ও ঘণ্টাভিত্তিক বেতন রাশিয়ায় পার্ট-টাইম কাজ সাধারণত ঘণ্টা ভিত্তিক পেমেন্টে হয়। কোন কাজ করলে কত পাওয়া যায় তা নির্ভর করে শহর, অভিজ্ঞতা, ভাষা দক্ষতা এবং কোম্পানির উপর। রেস্টুরেন্টে কাজ করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এখানে কেউ ওয়েটার, কিচেন হেলপার বা ফাস্ট-ফুড রেস্টুরেন্টে কাজ করলে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৮০ থেকে ৩০০ রুবল আয় করতে পারে। নতুনদের ক্ষেত্রে আয় কিছুটা কম এবং যারা রুশ বা ইংরেজি ভালো বলতে পারে তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি হয়। রেস্টুরেন্টে টিপস পাওয়াও সাধারণ ব্যাপার, যা অনেক সময় ঘণ্টাভিত্তিক আয়কে আরও বাড়িয়ে দেয়। সুপারশপ বা রিটেইল স্টোরে ঘণ্টাভিত্তিক পেমেন্ট প্রায় একই রকম। এখানে ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ থেকে ৩০০ রুবল পাওয়া যায়। এই কাজগুলোতে সাধারণত পণ্য সাজানো, কাস্টমার সার্ভিস, ক্যাশ কাউন্টার বা ইনভেন্টরি কাজ করতে হয়। যারা নতুন দেশে এসে সহজ কোনো কাজ খুঁজছেন, তাদের জন্য সুপারশপ জব বেশ সুবিধাজনক। ডেলিভারি জব রাশিয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। কারণ এই কাজের সময় নির্দিষ্ট থাকে না এবং অর্ডার যত বেশি, আয়ও তত বেশি। যদিও এটি অর্ডার ভিত্তিক পেমেন্ট, তবুও সাধারণ হিসাব করলে একজন ডেলিভারি কর্মী গড়ে ঘণ্টায় ৩০০ থেকে ৬০০ রুবল পর্যন্ত আয় করতে পারে। শীতকালে কাজ কিছুটা কষ্টকর হলেও আয়ের দিক থেকে এটিকে অন্যতম সেরা পার্ট-টাইম জব বলা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কিছু লাইট-জবও পাওয়া যায়। যেমন লাইব্রেরি অ্যাসিস্ট্যান্ট, বিভিন্ন ইভেন্টে সহায়ক কর্মী, ল্যাবের ছোটখাটো কাজ বা ডকুমেন্টেশন। এসব কাজ সাধারণত চাপমুক্ত হলেও ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১৫০ রুবল আয় দেয়। যারা পড়াশোনার পাশাপাশি খুব হালকা কাজ করতে চান তাদের জন্য এটি উপযুক্ত। অনলাইন ও ফ্রিল্যান্স কাজ এখন রাশিয়ার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক জব হিসেবে বিবেচিত। এখানে আয় ঘণ্টার ভিত্তিতে ডলার হিসেবে হিসাব করা হয়। গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডিজাইন, SEO, কন্টেন্ট রাইটিং বা ডাটা এন্ট্রি—এসব কাজে একজন শিক্ষার্থী ৫ থেকে ৩০ ডলার প্রতি ঘণ্টা উপার্জন করতে পারে। যারা স্কিলড, তারা রাশিয়ায় থেকেও আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্ট নিয়ে ভালো আয় করতে পারে।
রাশিয়ায় কাজ করার নিয়ম ও ঘণ্টা সীমা রাশিয়ার আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পার্ট-টাইম কাজ করতে পারে, তবে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মানতে হয়। স্টুডেন্ট ভিসায় পড়াশোনার সময় প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি আছে। অর্থাৎ আপনি রেস্টুরেন্ট বা সুপারশপে কাজ করলে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন, এবং ছুটির সময় ফুল-টাইম কাজ করার সুযোগ থাকে কারণ তখন ঘণ্টার সীমা থাকে না। কিছু ক্ষেত্রে ওয়ার্ক পারমিট বা অনুমতিপত্র লাগতে পারে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের স্টুডেন্টদের জন্য এই অনুমতিপত্র পেতে সহায়তা করে। তবে অনুমতিহীনভাবে কাজ করা উচিত নয়, কারণ তা ভিসা সমস্যার কারণ হতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো—ক্লাস বাদ দিয়ে কাজ করার চেষ্টা কখনোই করা উচিত নয়। রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্লাস অ্যাটেনডেন্স খুব গুরুত্বের সাথে দেখে, তাই নিয়ম মেনে চললেই সমস্যা এড়ানো যায়।
রাশিয়ায় ঘণ্টাভিত্তিক আয়ে একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কীভাবে নিজের খরচ সামলায় একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যদি প্রতি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করে, তাহলে সে তার কাজের ধরন অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে যথেষ্ট আয় করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, যদি কেউ রেস্টুরেন্টে ঘণ্টায় ২৫০ রুবল পায় এবং সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করে, তাহলে তার সাপ্তাহিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ৫,০০০ রুবল। ডেলিভারি করলে এই আয় আরও বেশি হতে পারে। এ আয় একজন ছাত্রের খাবার, যাতায়াত, মোবাইল, মৌলিক প্রয়োজনসহ বেশিরভাগ খরচই ম্যানেজ করে দেয়। যারা ফ্রিল্যান্সিংও করে, তারা মাসে আনায়াসে সঞ্চয়ও করতে পারে। রাশিয়ার বড় শহরগুলো যেমন মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ, কাজান এবং নভোসিবির্স্ক—এ কাজ পাওয়া তুলনামূলক সহজ এবং ঘণ্টাভিত্তিক রেটও বেশি। তাই শিক্ষার্থীরা সাধারণত এই শহরগুলোতেই ভালো সুযোগ পেয়ে থাকে।
About the Author
Content Author
